ইন্টারনেট জগতের অলিগলি

ইন্টারনেট;ওয়েবসাইট;সার্চ ইঞ্জিন;ইন্টারনেট জগতের অলিগলি;ভার্চুয়াল জগত;ইন্টারনেট জগৎ;the techo life;technolifepro;techno life pro;thetecholife;ইন্টারনেট ব্যবহার;ইন্টারনেট কী;ইন্টারনেট ব্যবহারের নিয়ম;ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা;ইন্টারনেট এর ব্যবহার;ইন্টারনেট বাংলাদেশ;digital Bangladesh
ইন্টারনেট-জগতের-অলিগলি

ইন্টারনেট জগত নিয়ে কিছু বেসিক ধারণা
Part- 1

বর্তমানে আমরা ইন্টারনেট এর জগতে বাস করতেছি। এই ইন্টারনেট এর কারনে বর্তমানে পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশ হয়ে গেছে এক একটি গ্রাম। যা আমরা পল্লি গ্রাম হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি। এই ইন্টারনেট এর কারনে আমাদের পৃথিবী এখন হাতের মুঠোয় চলে আসেছে। এই ইন্টারনেট জগত কে আমরা ভার্চুয়াল দুনিয়া বা ভার্চুয়াল জগত বলে থাকি। আমরা যেভাবে বাস্তব জগতে বসবাস করি ঠিক তেমনি ভাবে এই ইন্টারনেটর ভার্চুয়াল জগতে বসবাস করি। আমাদের অনেকেরই ভাবনা যে এই ইন্টারনেটর ভার্চুয়াল জগতটা খুবই সীমিত। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। এই রিয়েল ওয়ার্ল্ডে কোন কিছু হলে আমরা তা বিভিন্ন নিউজ বা নানা মাধ্যমে এটার প্রভাব টা সরাসরি বুঝতে পারি। কিন্তু এই ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল জগতে প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে অনেক বড় বড় কাজ হয়ে থাকে। যা আমাদের চোখের আড়ালে থেকে যায়। যার কারণে এ ইন্টারনেট জগতটা সম্পর্কে আমাদের ধারণাটি টা খুবই অল্প। ইন্টারনেট এতটাই বিস্তীর্ণ যা আমাদের কল্পনা অতীত। তাই আমি আপনাদের জন্য এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে “ইন্টারনেট জগতের অলিগলি” একটি সিরিজ আকারে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি যার মাধ্যমে আপনারা এই ভার্চুয়াল জগতটা বা ইন্টারনেট জগৎ সম্পর্কে একটু ধারনা পেতে পারেন।আসুন আমরা আগে জেনে নেই কিছু বেসিক বিষয়।

ইন্টারনেট কি (What Is Internet In Bangla) ?

ইন্টারনেট হলো অনেকগুলো কম্পিউটারের সংযোগ। ইন্টারনেট একটি বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত নেটওয়ার্ক সিস্টেম, যা বিভিন্ন ধরনের মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য প্রেরণ করতে আইপি বা টিসিপি ব্যবহার করে। আর একটু সহজ ভাবে যদি বলি ইন্টারনেট হলো, নেটওয়ার্ক (network ) এর এমন একটি বিশাল জাল, যেটা পুরো বিশ্বের (Globally) কম্পিউটার নেটওয়ার্কের (computer network) সাথে পরস্পরে (interconnected) সংযুক্ত (connected) হয়ে আছে। এবং, এই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক পরস্পরে একে আরেকটি ডিভাইসের (device) সাথে বিশ্বব্যাপী (worldwide) ভাবে লিংক বা কানেক্ট হওয়ার জন্য “Internet protocol suite (TCP/IP)” ব্যবহার করা হয়।

ইন্টারনেটের ইতিহাস শুরু হয়, ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের অগ্রগতির সাথে সাথে ১৯৫০ সালে। ইন্টারনেট সম্পর্কে জনসাধারণ প্রথম ধারণা প্রবর্তিত হয়েছিল, যখন কম্পিউটার বিজ্ঞান অধ্যাপক লিওনার্ড ক্রাইনরক তার গবেষণাগার ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ) থেকে অর্পানেটের মাধ্যমে একটি বার্তা স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআরআই) তে পাঠান। নেটওয়ার্ক সরঞ্জামের দ্বিতীয় অংশ সেখানে স্থাপিত করা হয়েছিল। ১৯৬০ সালের শেষ দিকে এবং ১৯৭০ সালের প্রথম দিকে প্যাকেট সুইচিং নেটওয়ার্ক যেমন ইউকের এনপিএলসিক্লিডিসমেরিট নেটওয়ার্কটিমনেট এবং টেলেনেট এর অর্পানেটে, মার্ক I বিভিন্ন প্রোটোকল ব্যবহার করে উন্নত করা হয়। অর্পানেট বিশেষ নেতৃত্ব দেয় ইন্টারনেটওয়ার্কিং এর প্রোটোকলের উন্নয়নের জন্য, যেখানে নেটওয়ার্কসমূহের একাধিক পৃথক নেটওয়ার্ক একটি নেটওয়ার্কের সাথে যোগ করা যেতে পারে।

অর্পানেটের অ্যাক্সেসের জন্য ১৯৮১ সালে একে সম্প্রসারিত করা হয়, যখন ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন (এনএসএফ) কম্পিউটার সাইন্স নেটওয়ার্কের (সিএসএনএটি) উন্নয়ন করে এবং আবার ১৯৮৬ সালে যখন এনএসএফনেট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সুপার কম্পিউটার সাইটগুলোতে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়। ১৯৮০ সালের শেষের দিকে এবং ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে বাণিজ্যিক ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীরা (আইএসপির) আবির্ভাব হতে থাকে। ১৯৯০ সালে অর্পানেট কর্মবিরত করা হয়। ১৯৯৫ সালে ইন্টারনেটকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়, যখন এনএসএফনেট কর্মবিরত হয়, ইন্টারনেট ব্যবহারের বাণিজ্যিক বহন শেষ নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে ফেলা হয়।

১৯৯০ সালের মাঝামাঝি থেকে, ইন্টারনেট সংস্কৃতিতে ও বাণিজ্যে এবং কাছাঁকাছি-তাৎক্ষণিক যোগাযোগ যেমন, ইলেকট্রনিক মেইল, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং, ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল (ভিওআইপি) “ফোন কল”, দ্বি-মুখ ইন্টারেক্টিভ ভিডিও কল এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবসহ ইন্টারনেট ফোরাম, ব্লগ, সামাজিক নেটওয়ার্কিং পরিষেবা এবং অনলাইনে কেনাকাটার ওয়েব সাইটসমূহে একটি বিপ্লবী প্রভাব বিস্তার করে।

গবেষণার এবং শিক্ষা সম্প্রদায় অব্যাহত বিকাশ এবং উন্নত নেটওয়ার্ক যেমন, এনএসএফস’র অতি উচ্চ-দ্রুতগতির ব্যাকবোন নেটওয়ার্ক পরিষেবা (ভিবিএনএস), ইন্টারনেট২ এবং জাতীয় ল্যামডারেল ব্যবহার করে। বড় ধরনের তথ্য আদান-প্রদান হয়ে থাকে উচ্চতর গতিসম্পন্ন ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মধ্যে যা ১-Gbit/s, ১০-Gbit/s, বা আরও বেশি হয়।

আজ ইন্টারনেট অনলাইন তথ্য, ব্যবসা, বিনোদন এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিং এর জন্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

ওয়েবসাইট কি (What is Website)?

বর্তমানে ইন্টারনেট এর সাথে কানেক্টেড হবার জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইট বা ওয়েব সাইট অথবা শুধু সাইট হল কোন ওয়েব সার্ভারে রাখা ওয়েব পৃষ্ঠা, ভিডিও, অডিও ও ডিজিটাল তথ্যের সমষ্টিকে বোঝায়। মূলত কয়েকটি ওয়েব পৃষ্ঠার সমন্বয়ে তৈরি হয় একটি ওয়েবসাইট। একটি সহজ ভাবে বুঝাতে গেলে আপনারা বর্তমানে আমার যে আর্টিকেলটি পড়তেছেন এটি একটি ওয়েব পেজ। আর এই ওয়েবপেজগুলো সমষ্টি হলো এই আমার TechnoLife Pro ওয়েবসাইট।

আমরা জানি ইন্টারনেট ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে। এই মুহূর্তে যদি আমরা বর্তমানে কি পরিমান ওয়েবসাইট লাইভ হচ্ছে তা দেখতে চাই তবে আমরা ভিবিন্ন ওয়েবসাইটের হেল্প নিতে পারি তা দেখবার জন্য। InternetLiveStats এর মতে ১,৮৭৮,৭৯১,০৪৩ টি ওয়েবসাইট অনলাইনে রয়েছে। কিন্তু আপনি যখন লিঙ্কটি চেক করবেন তখন আরও বেশী হতে পারে। এটি শুধুমাত্র সারফেস ওয়েবের হিসাব, যা আপনি Google , Bing বা Yahoo এর মতো সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে খুঁজে পান। এমন হাজার হাজার ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলার মধ্যে আপনি চাইলেই ঢুকতে পারবেন না। সেগুলোর জন্য প্রয়োজন আলাদা কনফিগারেশন এবং আলাদা অ্যাক্সেস। ওয়েবসাইট নিয়ে অন্য একটি পর্বে বৃহৎ ভাবে আলোচনা করব। তবে এমন কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো খুবই বিচিত্র।

সার্চ ইঞ্জিন কি (What is search engine)?

আপনারা এটি পূর্বে সার্চ ইঞ্জিন নামক একটি নামের সাথে পরিচিত হয়ে গিয়েছেন। এখন আপনাদের অনেকের মনে প্রশ্ন আস্তে পারে। এই সার্চ ইঞ্জিন তা আসলে কি ? বা এর কাজ কি ? সার্চ ইঞ্জিন মূলত ওয়েবে সন্ধান ইঞ্জিন বা সফটওয়্যার প্রোগ্রাম। যা ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করে ও প্রয়োজনের সময় সেই তথ্য প্রদান করে। সার্চ ইঞ্জিন এর মধ্যে মূলত অনেক গুলো রোবট থাকে। যে এই সারফেস ওয়েব কে একটি মাকড়সার জালের নেয় অবোধ করে তা বিচরণ করে। এবং বিভিন্ন জায়গায় থাকা ডিজিটাল তথ্য গুলোকে এক সাথে করে জমা করে। বর্তমানে বেশ কিছু জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুলোর মধ্যে

  • Google.
  • Yahoo.
  • Microsoft Bing.
  • Yandex.
  • Duckduckgo.
  • Baidu.

এই গুলো অন্যতম। সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে আরো বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন ।

আজ আমরা এ আর্টিকেল এর মাধ্যমে ইন্টারনেট জগতের একটি খুবই সামান্য বেসিক ধারণা পেয়েছি ইন্টারনেটের খুবই ক্ষুদ্রতম একটি অংশের। যেহেতু এই একটি আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমাদের ইন্টারনেট জগৎটাকে সম্পূর্ণভাবে জানা সম্ভব না তাই আমরা আমাদের এই সিরিজের দ্বিতীয় আর্টিকেলে আপনাদের সাথে আর একটু বিস্তারিত জানোর চেষ্টা করবো এই ইন্টারনেট জগৎ সম্পর্কে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.